১৯৮১ সালে ১৭ই মে ছয় বছরের প্রবাস ( নির্বাসন) থেকে ফিরেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা বিমানবন্দরে নামার পর যেসব শ্লোগান দেওয়া হয়েছিল, তার একটি ছিলো ‘হাসিনা তোমার ভয় নাই, আমরা আছি লাখো ভাই’।
শ্লোগানকে শ্লোগান হিসেবে নেওয়াই বা কার্যকারীতা একজন সত্যিকার দেশপ্রেমিক নেতা বা নেত্রী হলে দলের নেতা, কর্মী,সমর্থকরা বা নিবেদিতপ্রান শুভাকাঙ্ক্ষীরা তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন ।সাত বছর পর শেখ হাসিনা নিশ্চয়ই বিস্ময়ভরে আবিষ্কার করেছিলেন, কথাগুলো নেহাতই কথার কথা ছিলো না।
১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি। লালদিঘির ময়দানে সেদিন আওয়ামী লীগের জনসভা ছিলো। শেখ হাসিনার ওপর সেদিন নির্বিচার গুলি ছুড়েছিলো এরশাদ সরকারের পুলিশ ও সাদা পোষাকধারীরা। কিন্তু গুলি তাকে ছোঁয়নি। দেয়ালে বিধেছে। মানুষের সে দেয়াল থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়েছে। হাসিনার ভাইদের দেয়াল। মাথায় গুলি খেয়ে সীতাকুন্ড কলেজের জিএস যখন উল্টে পড়েছেন, তার জায়গা নিয়েছেন একজন শ্রমিক নেতা। রক্তাক্ত সে দেয়ালের নিরেট দূর্ভেদ্যতা অটুট ছিলো। একটা ইট খসে গেলে সেখানে বসেছে আরেকটি ইট। শেখ হাসিনা নিরাপদ ছিলেন। সেদিন আমাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল ছিলো রণক্ষেত্র- জান দেবো, লাশ দেবো না। রাত বারোটা পর্যন্ত চলেছে থ্রি নট থ্রি আর এসএলআরের বিরুদ্ধে ইট পাটকেলের লড়াই।
১৬ বছর পর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আবার ভাইদের কাছে ঋণী হয়েছেন হাসিনা। এদিনকার হামলা আরো ভয়ানক ছিলো। গুলির পাশাপাশি ছিলো আর্জেস গ্রেনেড। তুমুল বিস্ফোরণেও হাসিনার ভাইয়েরা ভুলে যায়নি তাদের প্রতিজ্ঞা। শরীরে অজস্র স্প্লিন্টার আর বুলেটের গর্ত নিয়েও দাঁড়িয়ে গেছে মানব দেওয়াল। মৃত্যু দিয়ে বোনের নিশ্চিত মৃত্যুকে ফিরিয়েছেন তারা।
সংকল্প প্রতিপালনের এ নজিরবিহীন উদাহরণ আর কখনো কেউ কি দেখেছে? আমার অন্তত জানা নেই। নীচের ছবিটা যতবার দেখি হৃদয় এক অদ্ভুত আবেগে উদ্বেলিত হয়।আপনি বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কর্মসূচী বাস্তবায়নে দৃঢ়সংকল্প এ এগিয়ে যান। আবারো আমরা বলি “হাসিনা তোমার ভয় নাই, আমরা আছি লাখো ভাই। “
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু।।
লেখকঃ নাসিম উদ্দিন চৌধুরী।

